টাঙ্গাইলে পাঁচ পৌরসভায় সংঘর্ষে পুলিশসহ ২০ জন আহত এবং ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আটক ও একজনকে কারাদণ্ডের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
ভূঞাপুর পৌর নির্বাচনে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে নারীসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কুতুবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। বিশৃংখলা সৃষ্টির ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তাহেরুল ইসলাম তোতাকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, ভূঞাপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী (পানির বোতল) প্রতীকের আনোয়ার হোসেনের সমর্থিতরা ভোট কক্ষ আটকিয়ে পানির বোতলে জাল ভোট দেওয়া শুরু করে। পরে বিষয়টি নিয়ে অপর কাউন্সিলর প্রার্থী (উটপাখি) প্রতীকের জাহিদুল ইসলামের সমর্থকরা প্রতিবাদ করে। এক পর্যায়ে জাহিদুলের এজেন্টসহ সমর্থকদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। এ সময় কেন্দ্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিতিতেই আনোয়ার গ্রুপের লোকজন জাহিদুল ইসলামের সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ ঘটনায় জাহিদুল ও আনোয়ার হোসেনের উভয়পক্ষের কমলা বেগম, আব্দুর রহমান, ময়েন উদ্দিন, খায়রুল. দুলাল, আছাদুল সুচি বেগম, সহিতন নেছাসহ প্রায় ১০ জন আহত হয়। পরে আইনশৃক্সখলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আহতদের উদ্ধার করে তাদের ভুঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে সংঘর্ষ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তাহেরুল ইসলাম তোতাকে আটক করে পুলিশ। এ সময় ওই কেন্দ্রে সাময়িকভাবে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্র এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করে। পরে প্রায় একঘন্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসলে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। ভূঞাপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কুতুবপুর কেন্দ্রে দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার শাহীনুল ইসলাম বলেন, দুই কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে আইনশৃক্সখলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় প্রায় একঘণ্টা ভোট গ্রহণ বন্ধ রাখা হয়। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
এদিকে টাঙ্গাইল পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের সাকরাইল স্কুল কেন্দ্রে বেলা দুইটার দিকে তিন কাউন্সিলর প্রার্থীর সাথে সংঘর্ষে পুলিশসহ ৮জন আহত হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ সংঘর্ষকারীদের লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এছাড়া টাঙ্গাইল পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ডের স্টার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে রাকিবুল হাসান নামের এক ব্যক্তিকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমন কুমার কর্মকার এ দণ্ডাদেশ দেন।
এদিকে মধুপুর পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী আব্দুল লতিফ পান্না নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার ও ভোট বর্জন করে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। শনিবার দুপুরে মধুপুর পৌরসভা নির্বাচন রিটার্নিং অফিসারের নিকট লিখিত আবেদন করেছেন। লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, ধানের শীষের পোলিং এজেন্টদের জোরপূর্বক কেন্দ্রে থেকে বের করে দেয়া, ভোটারদের নিকট থেকে মেয়র পদের ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে প্রকাশ্যে নৌকায় সিল দেওয়ার অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন করে পূনরায় ভোট গ্রহনের দাবি জানান।