ঢাকা, রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

কমলগঞ্জে পিপিআর ভাইরাসে ৫ শতাধিক ছাগলের মৃত্যু

ads

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে পিপিআর ভাইরাসে ছাগল আক্রান্তের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে এ রোগে প্রায় ৫ শতাধিক ছাগল মারা গেছে বলে খবর পা্ওয়া গেছে। শত শত আক্রান্তও হয়েছে এ রোগে। সরকারিভাবে পিপিআর ভ্যাকসিন থাকলেও ঠিকমতো হচ্ছে না সরবরাহ। সেই সাথে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারাও মাঠ পর্যায়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে।


এ অবস্থায় আক্রান্তের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। এতে সমস্যায় পড়েছেন চা-শ্রমিক, কৃষক ও খামারিরা। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কয়েক সপ্তাহ ধরে জ্বর, পাতলা পায়খানা, মুখে ঘা ও শ্বাসকষ্টে মারা যাচ্ছে গৃহপালিত ছাগল।


এ ছাড়াও আক্রান্ত শত শত ছাগল ও ছাগলের বাচ্চা ধুঁকে ধুঁকে মারা যাচ্ছে। এক সপ্তাহে উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নে বেশ কয়েকটি ছাগল মারা গেছে। মাধবপুর ইউনিয়নের নোয়াগাও গ্রামের খামারি আতাউর রহমানের ৩৩টি, পারোয়াবিল গ্রামের কৃষক ছবুর মিয়ার ১১টি, একই এলাকার চা-শ্রমিক গোপাল নুনিয়ার ৬টি, ইসমাইল মিয়ার ৬ টি, ছয়সিড়ি গ্রামের আব্দুল আলিমের ২টি, আরেক চা-শ্রমিকের ১১টি, কাটাবিল গ্রামের দুই কৃষকের ১৩টি, চা-শ্রমিক অতুল নুনিয়ার ১০টি, রামচন্দ্র গড়ের ১০টি, সুমন দাসের ৫টি, শ্রীনাত ভরের ৩টি, শ্রীনাত দাসের ২টি, সঞ্চয় বীনের ১৩টি, গোপাল নুনিয়ার ৫টি, মাধবপুর চা-বাগানের ৮নং লাইনের শ্রমিক সঞ্জয় দাসের ১৯টি, মাধবপুর বাজারের ইকবাল হোসেনের ২টি, রামনারায়ণ যাদবের ২টি, কাটাবিলের সুজিত কাহারের ৩টি, রামদয়াল ভরের ৪টি, রুহিত লাল ভরের ৪টি, বসন্ত কৈরীর ২টি, শ্রীরাম ভরের ২টিসহ একই এলাকার আরও কয়েকজন কৃষক ও চা-শ্রমিকের প্রায় ৫ শতাধিক ছাগলের মৃত্যু হয়।


ভোক্তভোগী খামারি ছবুর মিয়া, মাসুক মিয়া, ‘চা-শ্রমিক অতুল নুনিয়া ও গোপাল নুনিয়া দেশ রূপান্তরকে জানান, তাদের ছাগল ও ছোট ছোট বাচ্চা পিপিআর রোগে আক্রান্ত। রোগাক্রান্ত ছাগল নিয়ে বিপাকে খামারিরা।’


তারা অভিযোগ করে বলেন, ‘উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কোনো খোঁজখবর নিচ্ছেন না। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা যদি খোঁজ নিতেন, পিপিআর ভ্যাকসিন দিতেন তবে এতো ছাগল একসাথে মারা যেতো না।’


এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মো. হিদায়াতুল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পিপিআর ভাইরাসে ছাগলের মৃত্যুর বিষয়টি জানা নেই। মূলত লোকবল সংকটের কারণেই মাঠ পর্যায়ে খোঁজখবর নেয়া যাচ্ছে না। পিপিআর ভাইরাস হচ্ছে ছাগলের একটি জীবনঘাতী রোগ। যেসকল এলাকায় রোগাক্রান্ত ছাগল রয়েছে সেখানে পিপিআর ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হবে।’

ads
ads
ads

Our Facebook Page