ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

রাজধানীতে গণপরিবহনের দাপট

ads

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের মাঝে দুই দিন বন্ধ থেকে লকডাউনের তৃতীয় দিনে রাজধানীতে গণপরিবহন চলাচল শুরু হয়েছে।


বুধবার (৭ এপ্রিল) কাকডাকা ভোর থেকেই সড়কে অবাধে চলাচল করছে সরকারি ও বেসরকারি মালিকানাধীন গণপরিবহনের পাশাপাশি প্রাইভেট কার, জিপ, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ভ্যানগাড়ি ও রিকশা।


এছাড়া রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতিও গত দুই দিনের তুলনায় অনেকাংশে বেড়েছে। কোথাও কোথাও যানজটও দেখা গেছে।


সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্রেরই দেখা মিলেছে।


করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত ১৮ দফা বাস্তবায়নে ৫ এপ্রিল থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে লকডাউন শুরু হয়। নির্দেশনা অনুসারে জরুরি পণ্যবাহী পরিবহন ছাড়া রাস্তাঘাটে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ারও নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু শুরুর দিন থেকেই রাজধানীতে ঢিলেঢালাভাবে লকডাউন পালিত হতে দেখা যায়।


গত বছর সাধারণ ছুটি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোরভাবে পরিবহন ও মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা গেলেও এবার তা অনুপস্থিত ছিল। লকডাউনের ফলে জীবন ও জীবিকার ওপর আঘাত সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি মানুষ। তাই লকডাউনের নির্দেশনাও মানতে দেখা যায়নি।


এছাড়া লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মার্কেট খুলে দেওয়ার দাবিতে রাজধানীর নিউমার্কেটে, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, এলিফ্যান্ট রোডসহ পুরানা ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়।


সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঘোষণা দেন, দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন এলাকায় বুধবার থেকে গণপরিবহন চলবে। তবে আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।


এ ঘোষণার পর থেকেই লকডাউন বহাল থাকবে কিনা, গণপরিবহন চললে মার্কেট শপিং মল খুলে দেওয়া হবে কিনা ইত্যাদি নিয়ে রাজধানীসহ সারাদেশে নানা আলোচনা শুরু হয়।


তবে সরকারের একাধিক মন্ত্রী বলছেন, লকডাউন দেওয়ার ফলে আগের তুলনায় মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতা বেড়েছে। মানুষ সচেতন না হলে করোনা ভাইরাসের ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ ও মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব নয়।


তারা বলেন, মানুষের জীবন ও জীবিকার কথা ভেবে এবং অফিস-আদালতে যাওয়ার অসুবিধার কথা বিবেচনা করে গণপরিবহন চলাচল করতে দেওয়া হয়েছে। আজকের পরিস্থিতি দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ads
ads
ads

Our Facebook Page